চুল পরা রোধে ৭ টি কার্যকর হেয়ার মাস্ক

Seven effective hair mask to prevent hair loss

Tag: Seven effective hair mask to prevent hair loss

চুল আমাদের সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলে। কিন্তু আজকাল ছেলে মেয়ে সবারই চুল অকালে ঝরে পরছে এবং সাদা হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা দেখা দেয়ার সাথে সাথেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাই ঘরে বসে প্রাকৃতিক প্যাকগুলো ব্যবহার করতে হবে। যাতে করে আপনার চুল পড়া এবং চুল পাকা থেকে রক্ষা পান।
আমি প্রাকৃতিক ট্রিটমেন্টের কিছু কৌশল তুলে ধরলাম যা আপনি আপনার রান্না ঘরের কিছু উপকরণ দিয়ে বানাতে পারেন।
চুল পরা প্রতিরোধে হেয়ার মাস্ক:
১. রোজমেরি মাস্ক
২. দইয়ের মাস্ক
৩. কলার মাস্ক
৪. স্ট্রবেরি মাস্ক
৫. কারি পাতা এবং নারিকেলের হেয়ার মাস্ক
৬. অ্যাভাকাডো মাস্ক
৭. ক্যাস্টোর অয়েল হেয়ার মাস্ক

১. রোজমেরি হেয়ার মাস্ক
আপনি যদি নতুন চুল জন্মানোর জন্য সেরা হেয়ার মাস্কটি সন্ধান করে থাকেন, তাহলে এটিই সেই হেয়ার মাস্ক। চুলের বৃদ্ধির জন্য অনেক বছর ধরেই রোজমেরি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে চুলের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সক্ষম। রোজমেরি চুল জন্মানোর বিশ্বস্ত একটি নাম। যা অনেক বছর ধরেই ক্রামান্বয়ে জেনারেশনের পর জেনারেশন ব্যবহার করে আসছে।
উপকরণ:

  • ২-৩ টেবিল চামচ কুচি করা রোজমেরি
  • ১ কাপ পানি

প্রক্রিয়া:

  • ১ কাপ পানিতে কুচি করা রোজমেরি কয়েক মিনিট সেদ্ধ করে নিন।
  • পানি ছেঁকে নিন এবং ঠান্ডা হতে দিন।
  • ঠান্ডা হওয়ার পর লিকুইডটি আপনার স্ক্যাল্পে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন । কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রোজমেরি হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • চুল পুনরায় জন্মাতে সাহায্য করে।
  • চুল মজবুত করে
  • র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

২. দইয়ের হেয়ার মাস্ক
দই ভিটামিন বি (B), প্রোটিন এবং ভিটামিন ডি (D) দ্বারা গঠিত, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি চুলের গভিরে প্রবেশ করে চুলকে আরো ঘন মজবুত এবং আগা ভাঙ্গা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
দইয়ের হেয়ার মাস্ক কিভাবে বানাবেন?
উপকরণ:

  • ১ কাপ দই
  • ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার
  • ১ টেবিল চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  • একটি পাত্রে সব উপকরণগুলো ভালভাবে মিশান।
  • মিশ্রণটি আপনার চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান।
  • ১৫ মিনিট মাথায় রাখুন, এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দইয়ের হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • চুল ময়েশ্চারাইজড করে।
  • চুলে পুষ্টি জোগায়।
  • চুলকে মজবুত করে এবং চুলের ভাঙন কমায়।

৩. কলার হেয়ার মাস্ক
কলা পটাশিয়াম, এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রাকৃতিক তেল এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা চুল পরা রোধের জন্য পারফেক্ট উপকরণ। কলা সারা বছর পাওয়া যায় এবং চুলের হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে চমৎকার সাহায্য  করে। নিচে উল্লেখিত কলার হেয়ার মাস্কগুলো অনুসরণ করে আপনার চুল পরা রোধ করুন।
কিভাবে কলার মাস্ক বানাবেন?
উপকরণ:

  • ২ টি পাকা কলা
  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
  • ১ টেবিল চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  • সব উপকরণগুলো একটি পাত্রে মিশান এবং একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • মিশ্রণটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগান। পুরো মাথায় মিশ্রণ দিয়ে ঢেকে ফেলুন।
  • ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরেকটি হেয়ার মাস্কের রেসিপি দেওয়া হল যা কলা এবং বাদাম তেল দিয়ে তৈরিঃ

  • কয়েকটি কলা নিন এবং এগুলোর মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টে ৫ থেকে ৮ ফোঁটা বাদাম তেল মিশান।
  • আপনার চুলে ভালভাবে মাখুন। এবার চুল বেধে ফেলুন এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে এক ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখুন।
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং আপনার ব্যবহৃত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালেভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

কলার হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের উপকারিতা:

  • আপনার চুলকে উজ্জ্বল করে।
  • আপনার চুল নরম ও মসৃণ করে।
  • খুশকি কমায়।
  • ক্ষতি রোধ করে।
  • আপনার চুল ময়েশ্চারাইজ করে।

৪. স্ট্রবেরি হেয়ার মাস্ক
আপনার চুল যদি তৈলাক্ত হয়, তাহলে স্ট্রবেরি হেয়ার মাস্ক সবচেয়ে ভালো উপায়। দূষিত লোমকূপের ফলে চুল ঝরে পড়া কমাতে এই মাস্কটি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্ট্রবেরি হেয়ার মাস্ক চুল পড়া কমানোর ছাড়াও এটি আপনার চুলকে শক্ত ও মজবুত করে তুলবে।
কিভাবে স্ট্রবেরি হেয়ার মাস্ক বানাবেন?
উপকরণ:

  • ৩-৪ টি তাজা স্ট্রবেরি
  • ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
  • ১ টেবিল চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  • সব উপকরণগুলো একসাথে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • আপনার চুলে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মাস্কটি লাগান।
  • ২০ মিনিট পর্যন্ত ছেড়ে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

স্ট্রবেরি হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • তৈলাক্ততার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
  • লোমকূপ দূষণমুক্ত করে।
  • চুল মজবুত করে।
  • চুল পরা কমা।

৫. কারিপাতা এবং নারিকেল তেলের হেয়ার মাস্ক
কারি পাতায় প্রচুর প্রোটিন এবং বেটা ক্যারোটিন রয়েছে। যা চুল ঝরার বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। নারিকেল তেলের তীব্র বৈশিষ্ট্য এবং এর ফ্যাটি এসিড চেইন একটি সঠিক কম্বো যা চুলের পাতলা হয়ে যাওয়ার বিরূদ্ধে যুদ্ধ করে। এছাড়াও নারিকেল তেল চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই মাস্কটি ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।
কিভাবে নারিকেল তেল দিয়ে কারি পাতার হেয়ার মাস্ক বানাবেন?
উপকরণ:

  • ১০-১২ টি তাজা কারি পাতা
  • ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল

প্রক্রিয়া:

  • নারিকেল তেলে কারি পাতাগুলো শব্দ না হওয়া পর্যন্ত গরম করুন।
  • তেল সহনীয় পর্যায়ে গরম তাপমাত্রায় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • এরপর তেলটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলর আগা পর্যন্ত লাগান।
  • ২০ মিনিটের জন্য মাথায় রাখুন এবং একটি শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কারি পাতা এবং নারিকেল তেলের হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • চুল ঝরা কমায়।
  • চুল ময়েশ্চারাইজড করে।
  • চুলে পুষ্টি জোগায়।

৬. অ্যাভাকাডো হেয়ার মাস্ক
অ্যাভাকাডো ওমেগা-3 ফ্যাটি এসিডে পরিপূর্ণ, যা চুল জন্মাতে সাহায্য করে এবং চুলের স্বাস্থ্য সুন্দর করে। এতে  এ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি বৈশিষ্ট্য আছে, যা একে স্ক্যাল্পের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। আপনার চুলের গঠন উন্নত করা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য সপ্তাহে এক অথবা দুইবার অ্যাভাকাডো হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন।
কিভাবে ঘরেই বসে অ্যাভাকাডো হেয়ার মাস্ক তৈরি করবেন?
উপকরণ:

  • ১ টি ছোট পাঁকা অ্যাভাকাডো
  • ১/২ কাপ দুধ
  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • ১ টেবিল চামচ বাদাম তেল

প্রক্রিয়া:

  • উপকরণগুলো ব্লেন্ড করে মসৃণ ঘনত্বের একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
  • চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালভাবে লাগান।
  • ১৫ মিনিট চুলে রেখে দিন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাভাকাডো হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • চুলের আগা ফাঁটা কমায়।
  • চুল ময়েশ্চারাইজড করে।
  • চুলের কোঁকড়াভাব কমায়।

৭. ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্ক
ক্যাস্টর অয়েল প্রোটিন সমৃদ্ধ। এটি স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং চুলে পুষ্টি জোগায়। এটি ক্ষতিগ্রস্থ চুল ঠিক করে এবং চুল পুনরায় জন্মাতে সাহায্য করে।
কিভাবে ক্যাস্টোর অয়েল হেয়ার মাস্ক বানাবেন?
উপকরণ:

  • ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টোর অয়েল
  • ২ টেবিল চামচ ব্র্যান্ডি (এক ধরণের করা মদ)
  • ১ টি ডিম

প্রক্রিয়া:

  • সব উপকরণগুলো একসাথে ভালভাবে মিশান।
  • মিশ্রণটি আপনার স্ক্যাল্প এবং চুলে ম্যাসাজ করুন।
  • ৩০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন এবং এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্কের উপকারিতা:

  • কোঁকড়াভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • নতুন চুল জন্মাতে সাহায্য করে।
  • চুল পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

আশা করছি এই কার্যকর এবং প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্কগুলোর দ্বারা আপনার চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারবেন।