সোসাল মিডিয়াতে ছবি দেয়াই কি প্রেম?

love in social media

আজকাল ভালবাসা নাকি পরিমাপ করা হয় ফেসবুকের একটিভিটির মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নাকি হ্যাং আউট , চ্যাকিং , ছবি শেয়ার না করলে ভালবাসা অত টা জমে উঠেনা। কে কাকে কত টা ভালবাসে , তাদের ভালবাসা কত টা জমেছে তা নাকি বোঝা যায় একমাত্র ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে। আসলে কি তাই ?

কি অদ্ভুদ এক সময়ে বাস করছি আমরা। সময় টা বড্ড পাল্টে গেছে । এখন নাকি দাম্পত্য জীবনের ছবি ফেসবুকে শেয়ার না করলে সবাই ভাবেন তাদের হয়তো সম্পর্ক ভাল নয়। অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় সে ক্ষেত্রে। বন্ধু বান্ধব আত্মীয় পরিজন নানা প্রশ্ন করে। ধারণা  হয় তারা হয়তো ভাল সম্পর্কের মধ্য নেই। অনেক সময় দেখা যায় দাম্পত্য জীবন ৫-৬ বছর এর ও বেশি পেরিইয়েছে অনেকের কিন্তু সে দম্পতির সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অত টা আগ্রহ নেই বিধায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের একটিভিটি ও কম। কিন্তু এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় সে দম্পতির। প্রশ্ন আসলে মনের মধ্যে আসেই আচ্ছা এসব ই কি ভালবাসা?

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রেম দেখানোই টা কি আসল প্রেম?
কি ব্যাপার ফেসবুকে তোমাদের ছবি দেখা যায়না যে? কেন তুমি ভালবাসার মানুষ টির সঙ্গে ফেসবুক – ইনস্টাগ্রামে ছবি দাওনা? ঝামেলা চলছে কি? এমন সব প্রশ্ন অনেক কে শুনতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অল ব্রাইট কলেজ এর গবেষকেরা বলেছে – প্রেমের সম্পর্কের কথা ফেসবুকে কিংবা ভিন্ন কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা , এছাড়া ছবি শেয়ার করলেই বোঝা যায়না যে আপনি সুখী। এটা কখনোই প্রমাণিত হয়না। উল্টো গবেষকেরা দেখেছে যারা খুব সুখী তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম কে পরোয়ায় করেনা। ভালবাসা নিজেদের মধ্যে রাখতে পছন্দ করেন সুখী প্রেমিক – প্রেমিকা বা দম্পতিরা। তাদের কাছে ভালবাসা মানে শুধু তারাই।

অবিশ্বাস আর অনিরাপত্তাই কি অস্বস্তি?
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিডিয়া এমেরি কানাডার ১০৮ টি দম্পতির ওপরে পরীক্ষা চালিয়ে দারুণ একটি তথ্য পেয়েছেন, লিডিয়া বলেন, ফেসবুকে যারা “ ইন অ্যা রিলেশনশিপ “
ক্যাটাগরিতে থাকেন , তারায় মূলত প্রেম আর স্মপর্ক নিয়ে বেশি বেশি হতশায় ভুগেন। ভালবাসা হারানোর অনিরাপত্তায় ভোগেন। এমন কি প্রেম আর ভালবাসা – সম্পর্কিত ছবি আর পোস্ট বেশি শেয়ার করেন।

কারণ তারা ভাবেন তারা ফেসবুকে তাদের সম্পর্কের কথা শেয়ার না করলে হয়তো তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে অথবা তারা ভালবাসার মানুষ কে হারায় ফেলবে। তারা হয়তো এটা ও মনে করেন ফেসবুক ই একমাত্র মাধ্যম যেখানে জানিয়ে দেয়া যাবে তার সঙ্গি এনগেইজড। নয়তো এমন হতে পারে সে লুকিয়ে প্রেম করছে।

ভাল্বাসার দাঁড়িপাল্লা ই কি ফেসবুক?
ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলেছেন , দম্পতি কিংবা প্রেমিক – প্রেমিকাদের ফেসবুকে উপস্থিতি দেখেই বন্ধু বান্ধবেরা পরিমাপ করেন – কেমন তাদের সম্পর্ক। গবেষকরা ৪০০ দম্পতি আর প্রেমিক – প্রেমিকার কাছের বন্ধু দের প্রশ্ন করে দেখেছেন, সবাই ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামের একান্ত মুহুর্তের ছবি আর ভালবাসার পোস্ট দেখেই ধারণা করেন আর মেপে নেন যে কত টা সুখী এ দম্পতি। পারসোনালিটি এবং সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন জানিয়েছেন , সোশ্যাল মিডিয়াতে দম্পতি আর প্রেমিক – প্রেমিকাদের ছবি দেখে ভালবাসা পরিমাপ করা। নেতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ শুধু মাত্র। সুইডেনের চালমার্স স্কুল অব টেকনোলজির বায়োইনফরমেটিওস ও সিস্টেম বায়োলজিক বলেন , আপনি কত টা সুখী , তা আপনার ফেসবুকে পাতা থেকে বোঝা সম্ভব ও না। যারা এমন টা ভাবেন , তারা আসলী ভুল ভাবেন। নিজেদের সম্পর্কের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি তেমন গুরুত্ব পূর্ণ মনে করা ঠিক হবে না। ছবিতে লাইক ও কমেন্টের সংখ্যা কখনো ভালবাসার মাপকাঠি হতে পারে না।

ফেসবুকের দেয়াল ই কি সব?
সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়া কিংবা কোন ঝামেলার সৃষ্টি হলে অথবা কোন ধরণের সংকট হলে আমরা হুট করে ফেসবুকে হতাশার মহাকাব্য লিখে ফেলি। আবার অনেক সময় একান্ত মুহুর্তের আবেগ ও তুলে ধরি। এক জন অপর জনকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বাক্য লিখি। মনোবিদেরা বলেছেন , নিজের মনের সব কথা ফেসবুকে তুলে ধরাটা নেতিবাচক এবং সেই সাথে অনেক সময় এটি সঙ্গীর সাথে দূরত্ব ও সৃষ্টি করে। কারণ অনেকেই পছন্দ করেনা তার সঙ্গী তাদের একান্ত মুহুর্তের কথা কোন পাবলিক প্লেসে শেয়ার করা হোক।

খেয়াল রাখুন-

  • অন্যের ফেসবুক এর প্রোফাইল দেখে তার দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক নিয়ে কোন প্রশ্ন করবেন না। অথবা কোন কটুক্তিও করবেন না।
  • অন্যের প্রাইভেসি বিষয়টি সম্পর্কে খেয়াল রাখুন কারো প্রাইভেসী ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবেন না অথবা তাতে ইন্টারফেয়ার করার চেষ্টা করবেন না।
  • কিশোর বয়সের কেউ প্রেমের সম্পর্কে থাকলে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করলে অথবা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে তাকে ইতিবাচক পরামর্শ দিন। কোন নেতিবাচক কথা তাকে বলবেন না।
  • নিজের প্রিয় মানুষ টির সাথে সময় কাটানোর সময় সোশ্যাল মিডিয়াকে কখনোই গুরুত্ব দিবেন না। অনেকে দেখা যায় চ্যাক ইন অথবা সেলফি দিতে ব্যস্ত থাকে এটি অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • সম্পর্কে জটিলতা দেখা দিলে তা নিয়ে ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ না করাই ভালো কারণ এটি বিচক্ষন ব্যক্তিদের বহিঃপ্রকাশ। অনেকেই এ বিষয় টি অপছন্দ করে থাকেন এবং নেতিবাচক দৃষ্টিতে নেন।
  • অন্যের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবেন না অথবা উৎসাহ কম দেখাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here