আমেরিকা চীন বানিজ্য যুদ্ধ

America and China Trade War

আমেরিকা চীন বানিজ্য যুদ্ধ যা মরনাস্রের যুদ্ধ থেকেও ভয়ংকর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারনার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচিত হলে তিনি চীন থেকে পন্য আমদানির উপর শুল্ক আরোপ করবেন।তিনি ডেমোক্রেট অধ্যুষিত পেনসিলভেনিয়াতে নির্বাচনী প্রচারনার সময় বার বার ওয়াদা দিয়েছেন যে,নির্বাচিত হলে তিনি স্টিল এবং এলোমিনিয়াম সেক্টরের চাকরি ফেরত আনবেন।স্টিল শিল্পের রাজ্য পেনসিলভেনিয়াকে তিনি এই ওয়াদা দিয়ে ডেমোক্রেটদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন।তিনি সেই ওয়াদা রাখতে গিয়ে সম্প্রতি স্টিল আমদানির উপর ২৫% এবং এলূমিনিয়ার আমদানির উপর ১৫% শুল্ক আরোপ করছেন।যার সিংহভাগ আমদানি হয় চীন থেকে।আর এখানেই বলা হচ্ছে ট্রাম্প চীনের সাথে বানিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন।যদিও ট্রাম্প বলেছেন ৩৭০ বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য তিনি এই কাজ করেছেন।আসলেই কি তাই?আসলেই চীনের সাথে আমেরিকার বানিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব?
চীন থেকে প্রতি বছর আমেরিকার আমদানির পরিমান প্রায় ৫০৬ বিলিয়ন ডলার আর রপ্তানির পরিমান প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার।এই আমদানি বানিজ্যের ৬০ বিলিয়ন ডলারের পন্যের উপর আমেরিকা শুল্ক আরোপ করেছে।এতে হয়ত আমেরিকার স্টিল এবং এলুমিনিয়াম শিল্পের উপকার হতে পারে কিন্তু আদতে আমেরিকা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।কারন চীনের পক্ষ থেকেও পাল্টা শুল্ক আরোপের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন যে দুই দেশের বানিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ।দুনিয়ার দুই বৃহত অর্থনীতির এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই শেয়ার বাজারগুলু তাদের মুল্য হারাতে শুরু করেছে।এই বানিজ্য যুদ্ধে চীনের তেমন ক্ষতি হবে তেমন কেউ আশা করে না।কারন আমেরিকার সাথে বানিজ্যে চীনের জিডিপির ৩% জড়িত।আর আফ্রিকামুখী চীনের নির্মাণ শিল্পের কারনে সে তার স্টিলের বাজার খুঁজে নিতে পারবে।কিন্তু চীন যদি পাল্টা শুল্ক আরোপ করে তাহলে আমেরিকার ক্ষতিটা হবে মারাত্মক।কারন আমেরিকার সয়াবিনের বিশাল মার্কেট হল চীন।আছে ওয়াইন এবং স্ক্র্যাপ।
আমেরিকাকে চড়া মুল্য দিতে হতে পারে সয়াবিন এবং স্ক্রাপের ক্ষেত্রে।আমেরিকায় সয়াবিন শিল্পের সাথে জড়িত ৩ লক্ষ্য লোকের চাকরি এবং স্যািকা প শিল্পে জড়িত দেড় লক্ষ চাকরি।চীন প্রতি বছর ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্ক্র্যাপ আমদানি করে আমেরিকা থেকে।স্ক্র্যাপ ম্যানেজমেন্টে চীনের ধারে কাছেও দুনিয়ার কেউ নেই।চীন এটার আমদানি বন্ধ করলে এই বিশাল স্ক্র্যাপ ম্যানেজমেন্টে আমেরিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।চীন যদি এই দুই পন্যেও শুল্ক আরোপ করে তাহলে এই দুই শিল্প চরম পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।এছাড়াও চীনের বিমান সংস্থাগুলু আমেরিকান বোয়িং এর সাথে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও বাতিল করতে পারে।যদি তাই হয় তাহলে বলা যায় দুনিয়া নতুন এক অর্থ যুদ্ধের মুখোমুখি।
এর বাইরে আমেরিকার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ডের মালিক হল চীন।যেটা আমেরিকাতে সুদের হার কম রেখে আমেরিকাকে গতিশীল রেখেছে।চীন যদি এটা ফেরত চায় সেক্ষেত্রে আমেরিকাকে চরম এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাবে।
কিন্তু এই দুই দেশের আসল সমস্যা হল ভিন্ন জায়গায়।আমেরিকা চায় চীন আমেরিকার সাথে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য ঘাটতি কমিয়ে সেটা ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসুক।কিন্তু সেটা আসলেই সম্ভব নয়,প্রচলিত উপায়ে।তবে আমেরিকার কমার্স সেক্রেটারি আমেরিকার চাওয়া সত্যি কথাটি বলে ফেলেছেন।সেটা হল এই বানিজ্য ঘাটতি কমানো যায় যদি চীন আমেরিকা থেলে এলএনজি(গ্যাস) আমদানি করে।আমেরিকার এই বানিজ্য যুদ্ধের উদ্ধেশ্য পরিস্কার।চীন এই মাস থেকেই তার জ্বালানী মুল্য পরিশোধ শুরু করে ইউয়ানে।সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শুরু হবে পেট্রো ইউয়ানের ব্যাবসা। যেটা আমেরিকান ডলারের জন্য একটা চরম হুমকি বা আমেরিকার অস্তিত্বের জন্য হুমকি।আমেরিকা বানিজ্য ঘাটতির কারন দেখিয়ে চীন এই কর্ম থেকে বিরত রাখতে চায়।
এখন দেখার বিষয় এই যুদ্ধ কোন দিকে যায়।কে জিতে এই যুদ্ধে,চীন নাকি আমেরিকা।

Courtesy: Mohammed Mostafa Ripon