"অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো সাপ্তাহিক চর্যাচর্চা
পাঠচক্রের ১৪তম আশর"।
জুয়েল মিয়াজী, (প্রতিনিধি, দৈনিক তারুন্য).............।
গত ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ রোজ বুধবার নজরুল
বিশ্ববিদ্যালয়ের পেত্নীতলা সংলগ্ন ছাতার নিচে
অনুষ্ঠিত হয় সাপ্তাহিক ১৪ তম
চর্যাচর্চা পাঠচক্র। সন্ধ্যা ৫.৩০ মিনিটের সময়
পাঠচক্রের কার্যক্রম শুরু হয়।এবারের পাঠচক্রের
বিষয় ছিল, ডিরোজারিও এবং উনিশ শতকের নবজাগরণ।
উনিশ শতকের নবজাগরণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে
ফোকলোর বিভাগের কৃতি বিদ্যার্থী মজনু মিয়া রাজা
রামমোহন রায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি সতীদাহ প্রথা
বিলোপ প্রসঙ্গ তুলে আনেন।এছাড়া তিনি
ডিরোজারিও এর ব্যাক্তিগত জীবন সম্পর্কেও
আলোকপাত করেন।মজনু মিয়া ডিরোজারিও
সম্পর্কে বলেন যে তিনি এতটাই সংস্কারে
উদাসীন ছিল যে কি না তৎকালীন সময়ের
ক্ষমতাবান বাহ্মনদের কেও গরুর মাংস খেতে
প্ররোচিত করতেন। পাঠচক্রের আরেক সদস্য
ফোকলোর বিভাগের বিদ্যার্থী আকাইদ রহমান
ইকরা উনিশ শতকের নবজাগরণ সম্পর্কে বলতে
গিয়ে পূর্বেকার দিনের মানুষের ধর্মীয় গোঁড়ামি,
বহুবিবাহ,ও সতীদাহ প্রথার কুফলের কথা উল্লেখ
করেন।তিনি মনে করেন যে, সতীদাহ প্রথা ,
বহুবিবাহ, ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্তি পাওয়াটাই
হলো উনিশ শতকের সবচেয়ে বড় নবজাগরণ।
সিকান্দর বাদশাহ,ফিরোজ আহমেদের মতামতও
ইকরার মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।এরপর
ডিরোজারিও ও নবজাগরণ সম্পর্কে কথা বলেন কবি
শাহেদ, তিনি প্রথমে ডিরোজারিও এর জীবন চরিত
এবং পরে তার কর্মজীবন সম্পর্কে উপস্থিতিদের
ধারনা দেন।তিনি ডিরোজারিও এর সমাজ ভাবনার কথা
উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন যে,ডিরোজারিও
সর্বদা তিনটি বিষয় নিয়ে ভাবতেন সেগুলি হলো
নারী স্বাধীনতা , ধর্মের কুফল,ব্রিটিশ শাষনের
কুফল।অবশেষে পূর্বের বক্তাদের সাথে
সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য রেখে মাহমুদ রাকিব পাঠচক্রে
ডিরোজারিও এবং নবজাগরন প্রসঙ্গের ইতি টানেন।
এরপর পাঠচক্রের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব
স্বরচনা পাঠের আশর অনুষ্ঠিত হয়।এবারের
পাঠচক্রে কবি মাহমুদা স্বর্না প্রথমে তার 'নদীমাতৃক
টি স্টল " কবিতাটি আবৃতি করেন,এরপর জুয়েল
মিয়াজীর অনুরোধে তিনি তার "ক্যাসিওপিয়া -২" কবিতাটি
আবৃতি করেন।কবি শাহেদ তার "নয়ের দ্বিগুন
এপ্রিলে" কবিতাটি আবৃতি করে শোনান।বিজয়ের মাস
উপলক্ষে কবি সিকান্দর বাদশাহ তার "স্বাধীনতা" কবিতা
আবৃতি করেন।এছাড়া পাঠচক্রে শিরোনামহীন কবিতা
আবৃতি করেন কবি,গীতিকার ও আবৃতি শিল্পী মাহমুদ
রাকিব এবং সুবক্তা আকাইদ রহমান ইকরা।এবারের১৪তম
পাঠচক্রের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মাহমুদ রাকিবের
নায়ক মান্নার সংলাপের মুখাভিনয়।মাহমুদ রাকিবের "মান্নার
ভাষা অভিনয়ের প্যারোডি" দেখে পাঠকরা অনেক
মজা পেয়েছিল।
পাঠচক্রের শেষের দিকে এসে প্রাবন্ধিক ও
ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিভাগের কৃতি বিদ্যার্থী ফিরোজ
আহমেদ সংগীত পরিবেশন করেন।তার সংগীত
পরিবেশন উপস্থিতিদের অন্যরকম মুগ্ধতা দিয়েছিল।
অবশেষে রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিটের সময় টানা
তিনঘণ্টার পাঠচক্র কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।

Please log in to like,wonder,share and comment !

পশু পূজারী

....................
বড়ো গিন্নি ছেলেকে বারবার কান্নার
কারণ জিঙ্গেস করে। কিন্তু ছেলের কান্না
থামিয়ে কথা বলার অবকাশ ছিলো না। শুধু
কেদেঁই যাচ্ছে সে। জমিদার পুত্র ফটিকচরণ
কান্নার রহস্য না উন্মোচন করলেও মা কিন্তু
ঠিকই পুত্রের কান্নার কারণ বুঝে নিয়েছেন।
নিশ্চই পাশে দাঁড়ানো বাড়ির চাকরানীর
ছোট্ট দুষ্টু মেয়ে ফটিকের গায়ে হাত
তুলেছে। তাই গিন্নি রাগে ঘৃণায় ধপাশ ধপাশ
করে কয়েকটা কিল বসিয়ে দেয় মিলুর পিঠে।
মিলুকে মারতে দেখে ফটিকচরণ বলতে
লাগলো, মা মা মিলুকে মেরোনা। ও আমাকে
মারেনি।পায়ে বিড়ালে কামড় দিয়েছে!
সত্যিই তো, মা দেখলেন ছেলের পা থেকে
রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। যে মা ছেলেকে মারার
বিনা অপরাধে নিরিহ ছোট্ট মেয়েটির পিঠ
গরম করতে পারে। সে মা চাইলেই অপরাধী
বিড়ালের পরকালের টিকেট কেটে দিতে
পারতেন। বিড়ালটি পাশেই ছিলো। কিন্তু তা
তিনি করলেন না। কারণ এই তল্লাটের
জমিদারদের একটা সুখ্যতি আছে তারা
নিরীহ পশুর গায়ে হাত তোলেন না।
(অণুগল্প)

Please log in to like,wonder,share and comment !
  • contract 3 posts

  • genders Male
  • calendar-1 1997/01/01
  • worldwide Living in Bangladesh
  • Social Links
  • More info